এমন দেশটি কোথাও খুঁজে
মাথার উপর মেট্রোরেল,
নিচে ঋণের বোঝা,
ফিতা কাটার আগেই ফিতা ছিঁড়ে যায়,
হিসাবের খাতায় যোগ হয় শূন্যের পর শূন্য,
কিন্তু ঘাটতির হিসাব কেউ ধরে না।
বিদ্যুতের খুঁটি দাঁড়িয়ে থাকে আকাশ ছোঁয়া,
তাতে আলো নেই,
কিন্তু বিলে আগুন জ্বলে,
ট্রান্সফরমারে শুধু স্বপ্নই পুড়ে না;
পুড়ে যায় নাগরিকের অধিকারও।
শিক্ষার মাঠে গাছ রোপণ হয়েছে,
ফল দেয়; কেবল প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফল,
ডিগ্রি হাতে আসতেই বোঝা যায়
এটা শুধু বেকারত্বের সরকারি সনদ।
চিকিৎসার করিডরে দাঁড়িয়ে মৃত্যু ফিসফিস করে,
হাসপাতালে শয্যা ২০টা, রোগী ৫০,
ডাক্তার বিদেশে সেমিনারে,
প্রেসক্রিপশনে বিদেশি ওষুধের নাম
যা কিনতে গিয়েই রোগী মরতে শেখে।
নাগরিক অধিকার সোনালী অক্ষরে লেখা,
সংবিধানের পাতা জুড়ে,
কিন্তু বাস্তবে তার ঠিকানা
শুধু নেতার বক্তৃতায়,
বা দেয়ালে ছেঁড়া পোস্টারে।
টিভিতে বিজ্ঞাপন
ডিজিটাল, উন্নত, স্মার্ট দেশ,
বাস্তবে ড্রেনের পানি উঠে আসে বিছানায়,
রাস্তা বন্ধ,
তবুও শ্লোগান, ”আমরাই সেরা”!
আমরা সেতু বানাই, নদীহীন
জায়গায়,
বিমানবন্দর বানাই, যেখানে বিমান নামে না,
স্টেডিয়াম বানাই, খেলার জন্য নয়,
বিদেশি অতিথিদের ফটোসেশনের জন্য।
এই দেশ মেগা প্রকল্পে মেগা উন্নত,
কিন্তু নাগরিকের মেগা কষ্ট,
যার ফিতা কাটার কোনো অনুষ্ঠান নেই।