চোখের ভেতর তুমি, কথার ভেতর তুমি,
আমি যতদূর তাকাই, ততদূর পর্যন্ত তোমার ছায়া প্রসারিত হয়।
আকাশে ঝুলে থাকা নক্ষত্রও তোমার চোখের মতো দীপ্ত নয়,
বাতাসে ভেসে আসা কণ্ঠও তোমার মতো স্নিগ্ধ নয়।
আমি যখন নীরব হই, তোমার নামই মনে মনে জপ করি,
আমি যখন বলি, প্রতিটি শব্দে তোমার শ্বাস মিশে থাকে।
দিনের আলোয় তুমি—আমার সব আশার রঙ,
রাতের আঁধারে তুমি—আমার সব প্রার্থনার দ্যুতি।
আমি কতবার ভেবেছি, শব্দের বাইরে যাই,
কিন্তু ভাষা যখন ফুরোয়, তখনও তুমি থেকে যাও।
হৃদয়ের দরজায় অনবরত কড়া নাড়ো,
অন্তরালে খুঁজে পাওয়া সেই অনিবার্য স্পন্দন।
আমি জানি, সময়ের মতো তুমি-ও অমূল্য,
ভালোবাসার মতো তুমি-ও অবিচল।
চোখ যখন ভিজে ওঠে, তোমার ছায়া আঁকড়ে ধরি,
কথা যখন থেমে যায়, তোমার নীরবতাই সান্ত্বনা হয়ে দাঁড়ায়।
হাজার রঙের ভিড়ে কেবল একটি রঙই সত্য,
সেটি তোমার উপস্থিতির দীপ্ত সাদা আলো।
এ কারণেই তো বলি,
চোখের ভেতর তুমি, কথার ভেতর তুমি,
আর বেঁচে থাকার ভেতরও কেবল তুমি।
শ্বাসের ভেতর তুমি,
যেন প্রতিটি নিঃশ্বাসে মিশে থাকা অনন্ত অমৃত।
আমি যদি নিশ্বাস টেনে নিই, তোমারই গন্ধ
পাই,
আমি যদি শ্বাস ছেড়ে দিই, তোমারই নাম
উচ্চারিত হয়।
বাতাস যতই হোক অবাধ, আমার
কাছে কেবল তুমি অপরিহার্য।
অদৃশ্য অক্সিজেনের মতো তুমি অজান্তেই আগলে রাখো,
আমি বুঝতে পারি না, কিন্তু হারালে
বুঝতাম,
তুমি ছাড়া প্রতিটি শ্বাস দমবন্ধ অন্ধকার।
তুমি আছ বলে স্বপ্ন
টিকে থাকে,
তুমি আছ বলেই বুকে বাজে ছন্দ,
তুমি আছ বলে প্রতিটি শ্বাসে আমি খুঁজে পাই,
চিরকালের প্রেমের নিগূঢ় ধ্বনি।
স্বপ্নের ভেতর তুমি,
অন্ধকার রাতের বুক ছিঁড়ে আসা এক দীপ্ত তারা।
ঘুম ভাঙার আগেই তোমাকে দেখি,
আর ঘুম ভেঙে গেলেও তোমার রেখা মুছে যায় না।
স্বপ্নে তুমি কখনো অচেনা পথের যাত্রী,
কখনো দূর দিগন্ত থেকে ডেকে যাওয়া এক সুর।
তুমি ছড়িয়ে পড়ো আমার প্রতিটি কল্পনায়,
তুমি ভেসে ওঠো আমার প্রতিটি নিদ্রার ভেতর।
বাস্তব যতই হোক ক্লান্ত, স্বপ্নে
তুমি প্রশান্তির জলধারা।
বাস্তব যতই হোক শূন্য, স্বপ্নে তুমি
পূর্ণতার সীমানা।
আমি ঘুমিয়ে পড়ি একরাশ আস্থার ভেলায়,
যেন জানি, চোখ বুঁজলেই আবার তোমাকেই
পাবো।