তোমার চলে যাওয়ার পথে কোনো চিহ্ন রাখি না আমি,
যাতে তুমি টের না পাও—
কেউ একজন তোমার ছায়ার ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়েছে সন্তর্পণে।
কিছু ভালোবাসা তো এমনই হয়, যার কোনো ব্যাকরণ নেই,
শুধু আছে এক অদ্ভুত গোপন বিলাসিতা।
আমি তোমাকে সংজ্ঞায়িত করি না কোনো চেনা বিশেষণে,
বরং তোমার ওই মাঝেমধ্যে আনমনা হয়ে যাওয়া,
কিংবা ভিড়ের মাঝে হঠাৎ থমকে দাঁড়ানোর ভঙ্গি—
এসব দিয়েই আমি আমার নির্জনতার দেয়াল সাজাই।
লোকে বলে কবিতা কষ্টের ফল,
কিন্তু আমি জানি, আমার কবিতার প্রতিটি বিরতি আসলে তোমারই দীর্ঘশ্বাস।
শব্দের আড়ালে এক নদী
ইচ্ছে করলেই তোমার দরজায় কড়া নাড়তে পারতাম,
হয়তো মুঠোফোনের স্ক্রিনে ফুটে উঠতে পারত অগোছালো কোনো স্বীকারোক্তি।
কিন্তু আমি তো তোমাকে ভালোবাসি সেই কুয়াশার মতো,
যে বনের গভীরে মিশে থাকে নিভৃতে,
গাছের পাতাকে সিক্ত করে নিঃশব্দে,
অথচ সূর্য উঠলে নিজের অস্তিত্ব বিলীন করে দেয় কোনো অভিযোগ ছাড়াই।
চোখে চোখ পড়ার মূহূর্তে আমি যখন দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে নিই,
সেটা উপেক্ষা নয়— সেটা আসলে নিজেকে বাঁচানোর এক প্রাণপণ চেষ্টা।
কারণ আমি জানি, উচ্চারিত হয়ে গেলে এই পবিত্রতাটুকু ধূসর হয়ে যাবে,
মানুষের মুখে মুখে ঘুরে এই গোপন মায়া হারাবে তার নিজস্ব আভিজাত্য।
তাই তুমি অজানাই থেকে যাও—
যেমন নীল আকাশ জানে না তার বিশালতা কাকে বাঁচিয়ে রেখেছে,
যেমন গভীর মাটির নিচের শিকড় জানে না তার অন্ধকারের সাধনাতেই ফুটেছে কোনো বনফুল।
আমি তোমাকে এভাবেই আগলে রাখব,
একটু দূরত্বে,
একটু আড়ালে,
সমাপ্তিহীন এক নীরব মহাকাব্যের মতো।