বিকেলের কোমল আলোয় তোমাকে ভাবতেই পৃথিবী অন্য রকম হয়ে ওঠে।
নরম হাওয়ায় যেন তোমার শ্বাস মিশে আসে, আমার বুক ভরে ওঠে অদ্ভুত এক শান্তিতে।
চায়ের কাপে ধোঁয়া ওঠে—তার ভেতরে আমি শুধু দেখি তোমার মুখের প্রতিচ্ছবি,
যেন প্রতিটি চুমুকের ভেতর তোমার স্পর্শ লুকিয়ে আছে।
সূর্য যখন ডুবে যায়, আকাশে ছড়িয়ে দেয় প্রেমের লালাভ আভা,
আমি মনে করি—তুমি হয়তো সেই আভাটির ভেতর আমাকে খুঁজে ফিরছো।
তোমার চোখের গভীরতা মিশে যায় সন্ধ্যার মায়াবী অন্ধকারে,
আর আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলি সেখানে, যেমন নদী হারিয়ে যায় সমুদ্রে।
তুমি না থাকলে মুহূর্তগুলো নিঃশব্দ, অথচ তোমার কল্পনাই সব শব্দকে সুরে বেঁধে রাখে।
মনে হয়, পৃথিবী ঘুরছে আমাদের মিলনের জন্য,
আর সময়ের প্রতিটি ক্ষণ থেমে আছে আমাদের প্রেমের নীরব কবিতা হয়ে।
তুমি আমার চায়ের উষ্ণতা, তুমি আমার বাতাসের মাদকতা,
তুমি সেই সূর্যাস্তের নিঃশব্দ গল্প,
যা আমি বারবার পড়তে চাই, আর কখনো শেষ করতে চাই না।
রাত নামলে, তারাদের ভিড়ে তোমার ছায়া খুঁজি আমি,
চাঁদের আলোয় মনে হয় তুমি আঙুলের ছোঁয়া রাখলে আমার কাঁধে।
প্রতিটি তারা যেন তোমার নামে ঝলমল করে ওঠে,
প্রতিটি নিশ্বাসে ভেসে আসে তোমার অনুপম উপস্থিতি।
স্বপ্নে তুমি হাঁটতে আসো নীরব বাগানে,
যেখানে ফুলেরা মাথা নত করে তোমার পায়ের শব্দ শোনে।
আমি শুধু দেখি—তোমার হাসি ভরে দেয় চারপাশের নিস্তব্ধতা,
যেন পুরো পৃথিবী দাঁড়িয়ে গেছে তোমাকে দেখার জন্য।
তুমি আমার সকালবেলার প্রথম আলো,
তুমি আমার রাতের শেষ প্রার্থনা।
তুমি সেই অনন্ত কবিতা,
যার প্রতিটি ছন্দে আমি খুঁজে পাই নিজেকে,
আবার, আবার, আর আবার।