ভোরবেলা ঘুম ভাঙতেই দেখি,
চুলোর ধোঁয়ায় আকাশ ধূসর হয়ে গেছে।
স্ত্রী হাঁড়িতে ভাত চাপিয়ে বলে,
“এই যে, কুয়োর পানি শেষ,
স্ত্রী হাঁড়িতে ভাত চাপিয়ে বলে,
“এই যে, কুয়োর পানি শেষ,
ভোরে উঠেই একটা ঘটি তুলে দিতে পারো না?”
আমি হেসে বলি,
আমি হেসে বলি,
“তুমি তো বলেছিলে আমি চোখের মণি,
ঘটি তুললে মণি ফেটে যাবে যে !”
সে চোখ পাকায়,
সে চোখ পাকায়,
তবু ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি খেলে যায়।
বাজারে যাওয়ার আগে
সে একটা তালিকা দেয় আমার হাতে,
চাল, ডাল, তেল, লবণ, সাবান আরো কত কি !
বাবার জন্য ঔষধ,
মায়ের ছেড়া জুতো সেলাই করার তাগিদ,
মেয়েদের জন্য একটু সৌখিন খাবার !
আমি জিজ্ঞেস করি,
"আর তোমার জন্য ?"
হে মুচকি হেসে বলে,
"আমার জন্য তুমি ফিরলেই হয়!"
এই এক বাক্যেই আমার অর্ধেক ক্লান্তি গলে যায়।
বিকেলে দেখি, উঠোনে সে কাপড় মেলে,
বাতাসে ওড়ে রঙিন শাড়ি,
তার কপালে ঘাম জমেছে,
তার কপালে ঘাম জমেছে,
চোখে একরাশ আলো।
আমি বলি,
আমি বলি,
“চলো বসো, একটু বিশ্রাম নাও।”
সে বলে,
সে বলে,
“বিশ্রাম নিলে ভাত কে রাঁধবে, সংসার তো কবিতা না—
এটা চাল, ডাল আর চুলোর হিসেব।”
তবু আমি জানি,
এটা চাল, ডাল আর চুলোর হিসেব।”
তবু আমি জানি,
তার হাতের গন্ধেই সংসারটা কবিতা হয়ে ওঠে।
রাতে সবাই ঘুমিয়ে গেলে
আমরা দু’জন উঠোনে বসে থাকি,
চাঁদ ওঠে গাছের ডালে,
চাঁদ ওঠে গাছের ডালে,
বাতাসে ধানের গন্ধ।
আমি বলি,
আমি বলি,
“তুমি কখনো ভাবো, আমাদের জীবনটা কেমন?”
সে চুপ করে থাকে, একটু পর বলে,
“ভাবি, সুখ মানে বড় কিছু না,
দিনের শেষে যদি,
সে চুপ করে থাকে, একটু পর বলে,
“ভাবি, সুখ মানে বড় কিছু না,
দিনের শেষে যদি,
দু’জন মানুষ একসাথে নিঃশব্দে বসতে পারে,
তাহলেই সংসার পূর্ণ।”
তাহলেই সংসার পূর্ণ।”
আমি তার হাতটা ধরি,
তাতে খড়ের দাগ, চুলার কালো,
আর বছরের পর বছর না-পাওয়া ঘুমের রেখা—
তবু সেই হাতটাই আমার পৃথিবীর সবথেকে কোমল ফুল।
এইভাবেই দিন কেটে যায়, বছর ঘুরে আসে,
টুকিটাকি খুনসুটি, অভিমান, হাসি, ভালোবাসা—
তবু সেই হাতটাই আমার পৃথিবীর সবথেকে কোমল ফুল।
এইভাবেই দিন কেটে যায়, বছর ঘুরে আসে,
টুকিটাকি খুনসুটি, অভিমান, হাসি, ভালোবাসা—
সব মিলিয়ে,
আমাদের ছোট্ট, অথচ অমূল্য এক সংসার।
আমাদের ছোট্ট, অথচ অমূল্য এক সংসার।