প্রথমদিন ক্লাসে ঢুকেই সে তাকিয়েছিল তার দিকে।
গম্ভীর চেহারা, নরম কণ্ঠ, বোর্ডে চক দিয়ে লেখা অক্ষরগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠত তার হাতে।
ছোট্ট কলেজ শহরে এই মানুষটার নামই ছিল জ্ঞানের আর সৌন্দর্যের প্রতীক।
সে ছিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী — নরম চোখ, নির্ভেজাল বিশ্বাসে ভরা।
প্রথমে যেটা ছিল শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা, তা ধীরে ধীরে এক অদ্ভুত টান হয়ে উঠেছিল।
তিনি মাঝে মাঝে বলতেন—
গম্ভীর চেহারা, নরম কণ্ঠ, বোর্ডে চক দিয়ে লেখা অক্ষরগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠত তার হাতে।
ছোট্ট কলেজ শহরে এই মানুষটার নামই ছিল জ্ঞানের আর সৌন্দর্যের প্রতীক।
সে ছিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী — নরম চোখ, নির্ভেজাল বিশ্বাসে ভরা।
প্রথমে যেটা ছিল শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা, তা ধীরে ধীরে এক অদ্ভুত টান হয়ে উঠেছিল।
তিনি মাঝে মাঝে বলতেন—
“তুমি অন্যরকম। তোমার চোখে এমন কিছু আছে যা খুব কম মানুষেরই থাকে।”
সে লজ্জায় হেসে মাথা নিচু করত।
বুকের ভেতর তখন হালকা একটা ধাক্কা লাগত, যা শব্দহীন হলেও খুব বাস্তব।
একদিন অ্যাসাইনমেন্ট দেখার অজুহাতে তিনি বললেন—
“আজ বিকেলে একটু থেকে যেও, সময় পেলে।”
সে থেকে গিয়েছিল।
বাইরে তখন বৃষ্টি, জানালায় টুপটাপ শব্দ।
সেই দিন থেকে শুরু হয়েছিল সম্পর্কের এক নীরব অধ্যায় —
যেখানে ভালোবাসা, প্রশ্রয় আর প্রলোভনের সীমারেখা মিলেমিশে একাকার।
তিনি তার চোখে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন—
একসঙ্গে জীবন, একসঙ্গে ভবিষ্যৎ, এক নতুন পরিচয়।
আর সে, জীবনের প্রথম ভালোবাসা ভেবে সবকিছু নিঃশেষে বিশ্বাস করেছিল।
কিন্তু একদিন কলেজের নোটিশ বোর্ডে খবর এল —
শিক্ষকের বিয়ে ঠিক হয়েছে শহরের এক ধনী পরিবারের মেয়ের সঙ্গে।
সে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেনি।
তবু বিকেলে গিয়েছিল, শেষবার কথা বলবে বলে।
তিনি বললেন—
“দেখো, সমাজে কিছু নিয়ম আছে। আমি সব ভাঙতে পারি না।”
সে অনেকক্ষণ চুপ থেকে কাঁপা গলায় শুধু জিজ্ঞেস করেছিল—
“তাহলে আমি কে ছিলাম আপনার কাছে?”
কোনো উত্তর ছিল না।
কেবল টেবিলের উপর পড়ে থাকা অসমাপ্ত কবিতার খাতায় দাগ কেটে রেখেছিল একটি নরম অশ্রুবিন্দু।
তারপর থেকে সে কাউকে কিছু বলেনি।
বাড়িতে বলে— ক্লাসে মন বসে না।
কলেজে গিয়ে বোর্ডের লেখা অক্ষরগুলো যেন ঝাপসা হয়ে যায়।
চোখের নিচে ঘুমহীনতার ছাপ, আর বুকের ভেতর শূন্যতার প্রতিধ্বনি।
বছর শেষে সে কলেজ ছেড়ে চলে গেল।
কেউ জানল না কোথায় গেল, কেন গেল।
কেবল বারান্দার পুরনো জানালায় এখনো মাঝে মাঝে বাতাসে উড়ে আসে এক টুকরো কাগজ—
তাতে লেখা থাকে কয়েকটি লাইন—
> “শেষ পাঠটা আমি শেষ করতে পারিনি, স্যার।
আপনি শিখিয়েছিলেন ভালোবাসা মানে আত্মত্যাগ—
কিন্তু কাকে, কতটুকু, সেটা কেউ বলেনি।”