জানালার কাচে আঙুলে তোমার ছবি আঁকি,
অল্প স্পর্শে কাচ ঠান্ডা হয়ে ওঠে—
মনে হয় যেন তুমি কাছেই, নিঃশ্বাস ফেললে কুয়াশা জমে যেত।
বৃষ্টির শব্দে আজকাল নতুন অর্থ আসে,
প্রতিটা টুপটাপ শব্দে মনে হয়, তুমি বারান্দার শেষ প্রান্ত থেকে ডাক দিচ্ছো,
যে ডাক পৌঁছায় না—
ভিজে ওঠা বাতাসে শুধু তোমার অভিমানী চুপ থাকা ঘুরে বেড়ায়।
ঘরের মাঝখানে পড়ে থাকা একটি চেয়ার,
যেটি তুমি শেষবার টেনে নিয়েছিলে,
আজও ঢিলা হয়ে আছে,
আমি ঠিক করিনি—
কেন জানো, তোমার স্পর্শের শেষ বাঁকটি নষ্ট করতে চাইনি।
কখনও কখনও রাতের বেলা
বালিশের পাশে রাখা মোবাইলটা আলো জ্বালায়
নিজস্ব ইচ্ছায়—
আমি জানি, সেটি অ্যালার্ম নয়, নোটিফিকেশনও নয়,
এ শুধু তোমাকে খোঁজার বোকা অভ্যাসের চিহ্ন,
যেখানে তুমি নেই, সেখানে আমি খুঁজি।
একটা সময় আমরা দু’জন মিলে
স্বপ্নে শহরের মানচিত্র এঁকেছিলাম—
এখন সেই মানচিত্রে রাস্তা আছে,
ঘর আছে, আলো আছে—
শুধু তোমার হাসির জায়গাটা ফাঁকা পড়ে থাকে,
যেন নির্মাণশিল্পীর ভুলে বাদ পড়া খালি প্লট।
আমি আজকাল কথা বলি আমার নিজের ছায়ার সাথে,
ও বলে কম, শোনে বেশি—
কখনও বলে, “চল, ভুলে যাই”—
কিন্তু আমি জানি, ভুলে যাওয়ার প্রতিটি পরামর্শ
আরেকটি স্মৃতি হয়ে আমাকে তাড়া করে ফেরে।
রাত যত গভীর হয়, তত মনে পড়ে,
তুমি একদিন বলেছিলে—
“একাকিত্বও কখনও কখনও প্রিয়জনের মত আচরণ করে।”
আজ বুঝি, একাকিত্বই তোমার জায়গায় বসে আছে,
তোমার মতোই শান্ত, তোমার মতোই হঠাৎ দূর–
আর তোমার মতোই—
ফিরে আসবে কিনা কোনো নিশ্চয়তা নেই।
জানালার কাচে আবার আঙুল রাখি—
তোমার মুখের অদৃশ্য কাঠামো গড়ে তুলি,
দুটি চোখ, একফোঁটা হাসি,
এবার বাতাসে কুলুপ পড়ে—
ছবি ভিজে যায়, মুছে যায়, মিলিয়ে যায়—
তবুও কাচটার শীতলতায়
আজও তোমার অনুপস্থিতির উষ্ণতা খুঁজে পাই।