প্রিয়তি,
চলো একসাথে মেঠো পথে হেঁটে দুজন গ্রামের প্রকৃতি দেখি।
আমার ডান হাতের তালুতে বন্দি তোমার বাম হাতের আঙুল,
যেনো দুটি নদীর মধুর সংলগ্নতা,
কখনো ধীরে, কখনো তরঙ্গে…
আমাদের নিঃশব্দ হাঁটা জুড়ে শুধু কাঁচা ঘাসের শব্দ,
মাঠে দূরে কেউ লাঙল টানে, আকাশে উড়ে দলবদ্ধ অতিথি পাখি।
তুমি পাশে থাকলে সবকিছু নরম হয়ে যায়,
রোদটাও যেন তোমার চোখের ভাষায় কথা বলে!
আমি থেমে যাই কোনো পুকুরঘাটে,
তোমার চুলে শালিকের বাসা খুঁজি,
তুমি হাসো
হাসির শব্দে থেমে যায় পাখিদের কলতান।
প্রিয়তি,
এই মেঠোপথটা শুধু গ্রামের নয়,
এটা আমাদের ভালোবাসার আলপথ,
যেখানে প্রতিটি পদচিহ্নেই লেখা থাকে একটা করে গল্প।
দেখো,
আকাশের রঙটাও আজ একটু অন্যরকম
হয়তো আকাশও চায় আমাদের মতো করে জোড়া বাঁধতে
একটা নীল ও একটা মেঘলা বুক।
তুমি থাকলে গোধূলিও ধৈর্য ধরতে জানে,
সূর্য ডুবে যেতে গিয়েও থমকে দাঁড়ায় কিছুটা সময়।
প্রিয়তি,
এই মেঠোপথে হাঁটতে হাঁটতে একসময় আমরা হারিয়ে যাবো
কোনো গ্রাম্য ঘরে, কোনো উঠোনে,
যেখানে তোমার কপালের টিপ শুকনো ধানগাছের নিচে জ্বলবে,
আর আমি সেই আলোয় প্রতিবার নতুন করে তোমায় চিনে নেবো।
আমরা থাকবো,
হয়তো নীরবে
ভালোবাসা প্রতিদিন নতুন করে মুখ তুলবে এই মাটির রোদে।
আর আমাদের মেঠো পথটা—
হবে ভালোবাসার সবচেয়ে নিঃশব্দ অথচ সবচেয়ে জীবন্ত কবিতা।