প্রেমিক যেমন নীরবতায়ও পাশে থাকে,
তেমনি বিষণ্নতাও এক অদৃশ্য প্রতিচ্ছবি হয়ে
হৃদয়ের ভেতর ভেসে ওঠে।
কখনও মনে হয়—
অপরাজেয় সাগরের গর্জন বুকে প্রতিধ্বনিত,
ঢেউ ভাঙছে শিলার গায়ে,
প্রতিটি আঘাতে ভেঙে পড়ছে নিঃশব্দ সাহস।
হঠাৎ করেই আকাশ জুড়ে বজ্রপাত—
এক মুহূর্তের জন্য পৃথিবী আলোকিত হয়,
তারপর নেমে আসে গভীর আঁধার।
সেই আঁধারে বিষণ্নতা দাঁড়িয়ে থাকে,
দগ্ধ করে যায় ভেতরের অন্ধকারটুকু।
আমার হৃদয় যেন এক বিশাল কাচঘর—
যেখানে প্রতিটি স্মৃতি একটি ভঙ্গুর জানালা।
সামান্য স্পর্শেই ফেটে যায়,
ছিটকে পড়ে হাজার টুকরোয়।
প্রতিটি টুকরোয় লেগে থাকে
তোমার অনুপস্থিতির প্রতিফলন—
ঝলমল করে, কেটে দেয় আঙুল,
ফেলে যায় অদৃশ্য রক্তক্ষরণ।
বিষণ্নতা নিছক নিস্তব্ধতা নয়;
এটি এক অদ্ভুত সঙ্গী—
ঝড়ের মতো এসে সব তছনছ করে,
তারপর চুপচাপ বসে থাকে ভেতরে।
আমি শুনতে পাই তার ভাঙনের শব্দ
প্রতিটি নিশ্বাসে—
সাগরের গর্জন,
বজ্রপাতের ছেঁড়া আলো,
কাচের ভাঙনের টুকরো টুকরো চিৎকার হয়ে।
তবুও আমি বেঁচে থাকি।
কারণ এই ভাঙনের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে
অদ্ভুত এক সৌন্দর্য।
প্রেমের মতোই, বিষণ্নতারও আছে নিজস্ব দীপ্তি—
যা আমাকে বারবার ভেঙে দিয়ে,
আবার গড়ে তোলে—
নিরন্তর।