মানুষ কত সহজে বলে— “ভুলে গেছি।”
যেন স্মৃতি একখণ্ড পাথর,
ইচ্ছে করলেই নদীতে ফেলে দেওয়া যায়।
কিন্তু তোমাকে ভুলে যাওয়ার কোনো নদী আমার জানা নেই,
তোমার অস্তিত্ব জলের মতো—
আমার রক্তে মিশে গেছে,
আমার নিঃশ্বাসের ভেতর ঘুরে বেড়ায় তার অদৃশ্য প্রতিধ্বনি।
ভুলে যাওয়া কোনো দরজা নয়,
যা ইচ্ছে মতো খুলা বা বন্ধ করা যায়।
তুমি আমার ভিতর এমনভাবে গেঁথে আছো,
যেমন সকালের শিশির ঘাসের ডগায়—
ঝরে গেলেও তার ঠান্ডা স্মৃতি থেকে যায় ত্বকে।
তুমি নেই— এই কথাটা যতবার বলি,
ততবার মনে হয়, আমি নিজেকেই মিথ্যা বলছি।
কারণ তোমাকে হারানো মানে,
আমার ভিতরের অর্ধেক আলো নিভিয়ে ফেলা।
তুমি আছো— আমার প্রতিটি অনুচ্চারিত বাক্যে,
অলিখিত কবিতার পঙ্ক্তিতে,
আমার নীরবতার গভীরে সঞ্চিত এক অনন্ত নকশার মতো।
ভুলে যাওয়া কখনও ঘটে না—
শুধু রূপ বদলায় স্মৃতির,
যেমন আগুন নিভে গেলে ছাইয়ের ভেতরও থাকে উষ্ণতা।
তুমি সেই উষ্ণতা—
যা আর জ্বলে না,
তবু নিঃশব্দে আমাকে পোড়াতে থাকে
প্রতিটি ভোরের আগে, প্রতিটি নিঃশ্বাসের পরে।