রাত যত গভীর হয়, তত নরম হয়ে আসে তোমার অনুপস্থিতি।
মনে হয়— কারো নিঃশব্দ পদধ্বনি ভেসে বেড়াচ্ছে কুয়াশার ভেতর,
কিন্তু তাকালে দেখি, কেউ নেই।
বাতাসে শুধু তোমার উচ্চারণহীন নাম—
যার উচ্চারণে একসময় আমার সমগ্র পৃথিবী সজীব হয়ে উঠত।
আমি এখনো সেই নদীর পাড়ে যাই—
যেখানে তুমি একদিন বলেছিলে,
“প্রেম মানে একে অপরের দিকে তাকানো নয়,
একই দিকে তাকিয়ে হাঁটতে পারা।”
কিন্তু আমরা তো শেষ পর্যন্ত ভিন্ন দিগন্তের দুই যাত্রী হয়ে গেলাম;
তোমার সকাল শুরু হলো যেদিকে,
আমার সেখানে আজও সন্ধ্যা নামে।
কখনো কখনো মনে হয়—
বিরহ আসলে এক দীর্ঘ অভ্যাসের নাম।
যেমন প্রতিদিন সূর্য অস্ত যায়,
আমিও প্রতিদিন একটু করে হারিয়ে ফেলি তোমার গন্ধ, তোমার কণ্ঠ, তোমার ছোঁয়া।
কিন্তু অদ্ভুতভাবে, ঠিক তখনই তোমাকে নতুন করে অনুভব করি—
কোনো পুরোনো গানের রেশে, কোনো অচেনা চোখের দৃষ্টিতে,
অথবা আকাশের সেই একটুখানি মেঘে,
যা ভেসে আসে অকারণে,
তবু মনে করিয়ে দেয়,
তুমি একদিন ঠিক এমন করেই এসেছিলে আমার জীবনে।
রাত্রির নীরবতা এখন আমার একমাত্র শ্রোতা।
আমি তাতে ঢেলে দিই অসম্পূর্ণ বাক্য, অগোছালো স্মৃতি—
যা কেবল তুমি বুঝতে।
এখন সেগুলো বাতাসে ছড়িয়ে থাকে
অদৃশ্য কবিতার মতো,
যার পাঠক নেই, তবু লেখক এখনো লিখে যায় অবিরাম।
বিরহ এক অদ্ভুত দহন—
যেখানে আগুন নেই, কেবল উষ্ণ ছাইয়ের গন্ধ।
প্রেম এখানে দহন নয়, ধ্যান;
অন্তহীন মনোযোগ, যেখানে তোমার নামই একমাত্র মন্ত্র।
আমি তাই প্রতিরাতে তোমার নীরবতা উচ্চারণ করি,
একজন সন্ন্যাসীর মতো—
যে জানে, ঈশ্বরও কখনো তার প্রার্থনার জবাব দেন না,
তবু সে প্রার্থনা থামায় না।
তুমি হয়তো দূরের কোনো শহরে এখন নিদ্রায়,
আর আমি— তোমার সেই ঘুমের ভেতর নিঃশব্দে জেগে আছি।
কারণ বিরহ মানে তো ঠিক এটাই—
যখন ভালোবাসা বেঁচে থাকে,
কিন্তু একে অপরের স্পর্শ ছাড়াই।