ভুলটা আসলে কার ছিল—
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে
আমি বুঝলাম,
মানুষের ভেতরে দুটি অংশ থাকে—
একটি ভালোবাসে,
আরেকটি ভয় পায়।
হয়তো তোমার ভালোবাসা ভয়কে হারাতে পারেনি,
আর আমার ভয় ভালোবাসার কাছে
সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে পারেনি।
তাই দূরত্বটা তৈরি হলো
অকারণে নয়;
আমাদের অসম্পূর্ণতার ওপর দাঁড়িয়ে
নির্মিত হলো এক নিঃশব্দ প্রাচীর।
তোমার নীরবতার পিছনে
যে অজানা প্রশ্ন লুকিয়ে ছিল—
আমি তার ভাষা বুঝিনি।
আর আমার অসহায় শব্দগুলোর পেছনে
যে ভাঙনের কাহিনি ছিল—
তুমি তার গভীরতা ধরতে পারোনি।
এভাবে ভুল কখনো একতরফা হয় না—
ভুলেরও নিজের একটা চরিত্র আছে:
সে দু’জনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে
হাসিমুখে দেখে যায়
দুইপাশের অপূর্ণতা।
তুমি যদি একটু বুঝতে—
আমি কতটা চেষ্টা করেছিলাম,
তবে হয়তো আজ
এই গল্পের সমাপ্তি অন্যরকম হতো।
আর আমি যদি একটু শুনতাম—
তোমার নীরবতার আড়ালে জমে থাকা
ক্লান্তি ও প্রশ্নগুলো,
তবে হয়তো তোমাকে হারাতে হতো না।
মানুষ যখন ভুল খুঁজতে বের হয়,
অবাক হয়ে দেখে—
অপরাধী কেউই নয়,
কিন্তু আহত সবাই।
আজ আমি শুধু জানি—
তুমিও সত্য বলেছিলে,
আমিও মিথ্যে বলিনি।
তুমি ছিলে তোমার মতো,
আমি ছিলাম আমার মতো—
আর মাঝখানের হাওয়াটি
যেন বারবার ভুল বার্তা বয়ে নিয়ে গিয়েছিল
দু’জনের দিকেই।
তাই দায় আমি আজ কারও ওপর দিই না—
না তোমার,
না আমার।
দায় দিই সেই সময়টাকে,
যখন আমরা দু’জনই
আংশিক সত্য ছিলাম,
আংশিক অসম্পূর্ণ,
আর সম্পূর্ণভাবে একে অপরকে
হারিয়ে ফেলেছিলাম।