দেখুন! ভালো করে চেয়ে দেখুন এই আগুনের দিকে।
এটা কোনো যজ্ঞের আগুন নয়,
নয় কোনো পবিত্র হোমশিখা।
এটা কোনো যজ্ঞের আগুন নয়,
নয় কোনো পবিত্র হোমশিখা।
এ হলো— আমার, আপনার, আমাদের তথাকথিত ‘ঝকঝকে’ সভ্যতার দাহ!
ওই যে সবুজ ঘাসের বুক চিরে দাউ দাউ করে জ্বলছে,
ওটা কি শুধুই কাগজের টুকরো?
প্লাস্টিক?
নাকি পলিথিনের মোড়ক?
ভুল ভাবছেন।
ওগুলো আমাদের ভোগবিলাস, আমাদের উদাসীনতা,
আমাদের বিবেকের পচে যাওয়া অবশিষ্ট।
আমরা শহর সাজাই, ঘর সাজাই,
টাইলস ঘষে মেঝের দাগ তুলি,
আর তারপর?
তারপর আমাদের সমস্ত আবর্জনা, সমস্ত পাপ,
ছুড়ে ফেলি এই প্রকৃতির বুকে।
ভাবি— "ব্যাস! ল্যাঠা চুকে গেল!"
ল্যাঠা চুকে গেল?
প্রকৃতি কি আপনার ডাস্টবিন?
ওই আগুনের লেলিহান শিখার দিকে তাকালে কি লজ্জা করে না?
গোধূলির ওই ম্লান আকাশ আজ ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে আছে।
বাতাস ভারী হয়ে আছে পোড়া গন্ধে—
এ গন্ধ আবর্জনার নয়, এ গন্ধ আমাদের পচে যাওয়া মানসিকতার!
আমরা প্লাস্টিক গিলছি, প্লাস্টিক পরছি,
আর পৃথিবীটাকে বানিয়েছি এক বিশাল ভাগাড়।
আর যখন সেই ভাগাড়ে আগুন লাগে,
তখন আমরাই আবার নাক চেপে পাশ কাটিয়ে চলে যাই।
কিন্তু মনে রাখবেন—
এই আগুন আজ মাঠে জ্বলছে, কাল আপনার ফুসফুসে জ্বলবে।
আজ আবর্জনা পুড়ছে, কাল অক্সিজেন পুড়বে।
পুড়ুক! আজ সব পুড়ে ছাই হয়ে যাক!
যদি এই আগুনেই শুদ্ধ হয় মাটি, তবে তাই হোক।
কিন্তু জেনে রাখুন হে নাগরিক সমাজ,
এই আগুনের শিখা কেবল বর্জ্য পোড়ায় না,
এ আগুন আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়—
আমরা কতটা কুৎসিত, কতটা অকৃতজ্ঞ!
আগুন জ্বলছে। জ্বলুক।
শুধু মনে রাখবেন,
একদিন এই ছাইয়ের নিচেই চাপা পড়বে—
আমাদের এই প্লাস্টিক মোড়ানো মিথ্যে অহংকার।