আলো নিভে আসে, কেবল আমার কণ্ঠের ভেতর জ্বলে ওঠে অনন্ত শিখা—
শব্দ যেন দোলে, শ্রোতার চোখে এক অদ্ভুত নীরবতা।
আমি পড়ি কবিতা, কিন্তু আসলে আমি পড়ি আমারই জীবন,
যে জীবনে প্রিয়তমা হারিয়ে গিয়েও থেকে গেছে ছন্দের মতো—
কখনো লাজুক, কখনো তীব্র, কখনো শুধু নিঃশ্বাসের শব্দ।
মঞ্চের সামনে বসে থাকা মানুষগুলোকে দেখি,
তাদের মুখে যেন অচেনা চাঁদের আলো—
কে জানে, হয়তো তারাও কোনো অপ্রাপ্ত প্রেমের কবিতা হয়ে এসেছে আজ।
আমি হাত তুললে বাতাস থমকে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়,
আমি কথা বলছি মহাকাশের ভাষায়।
এই মঞ্চ—
এই কাঠের মেঝে, পর্দার গন্ধ, আলোর কম্পন—
সবই যেন এক পবিত্র মন্দির,
যেখানে শব্দেরা ঈশ্বরের মতো অবতীর্ণ হয়।
আমি শুধু তাদের নাম উচ্চারণ করি—
প্রেম, বেদনা, অপেক্ষা, রাত্রি—
আর তারা নিজেরাই রূপ নেয় প্রার্থনায়।
আজ আমি কবি নই, আমি কেবল এক সেতুবন্ধন—
হৃদয় থেকে হৃদয়ে পৌঁছে দিই অনুভূতির আলো।
কেউ যদি প্রশ্ন করে, “তুমি কী পাও এই উচ্চারণে?”
আমি শুধু হাসি—
কারণ প্রতিটি উচ্চারণের শেষে আমি নিজেকেই আবার খুঁজে পাই
নতুন করে, ভিন্নভাবে,
একটি কবিতার মতো।
চলো তবে, আজকের এই রাতটা
শব্দের মঞ্চে ঝরে পড়ুক নক্ষত্রের মতো—
আমার কণ্ঠে, তোমার চোখে,
আর অমলিন থেকে যাক সেই প্রথম শ্রবণের মুহূর্ত।
— ✦ নূরে আলম আলিফ