সবুজ চা-বাগানের অনন্ত ঢেউয়ের ভেতর দিয়ে আমি হাঁটি—
রোদ ঝলমলে এক দুপুর, আকাশে নরম মেঘের ছায়া।
পাতায় পাতায় কণার মতো শিশির, যেন প্রকৃতির ললাটে ঘামবিন্দু,
রাবার গাছের দীর্ঘ সারি দাঁড়িয়ে আছে নীরব প্রহরীর মতো।
হাওয়ার ভেতর ভাসে চায়ের কাঁচা ঘ্রাণ,
দূরে কোথাও মেশিনের জল ছিটানোর শব্দ—
সেই শব্দে মনে হয়, জীবন এখনও জেগে আছে,
কৃষকের কপালে এখনো স্বপ্নের নরম ছোঁয়া লেগে আছে।
আমি থেমে থেমে দেখি, কী নিঃশব্দে প্রকৃতি কাজ করে—
পাতা ঝরে, আবার গজায়,
জল পড়ে, আলো জ্বলে,
আর মানুষ, সেই চিরন্তন পথিক, মিশে যায় সবুজের অন্তহীন স্রোতে।
সহযাত্রীরা হাসে, কেউ গল্প বলে, কেউ শুধু চেয়ে থাকে দূরে—
ওদের চোখে ঝিলিক খেলে যায় সকালের শিশিরের মতো।
আমি বুঝি, এই যাত্রা শুধু মাটির উপর নয়,
এ এক আত্মার ভ্রমণ, যেখানে মুক্তি পায় শ্বাসেরও অতল ক্লান্তি।
সবুজের এই রাজ্যে আমি একা নই—
আমার চারপাশে ছড়িয়ে আছে জীবনের অদৃশ্য সঙ্গীত,
যেখানে রোদ, মাটি, জল আর মানুষের পরিশ্রম
একত্রে গড়ে তোলে সৌন্দর্যের এক পবিত্র উপাসনালয়।
এই নীরব বিস্তারে দাঁড়িয়ে আমি নিজেকেই খুঁজে পাই—
সবুজের ভিতর, প্রকৃতির মন্দিরে,
এক শান্ত পথিক হয়ে,
নিরুদ্বেগ, নির্ভার, অনন্তের পথে। 🌱